পোশাক শিল্পে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির বড় সুযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) টেকনিক্যাল ডিজাইন সেকশন খোলা ও কারখানা পর্যায়ে তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনারদের নিয়োগ দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যান্ড পোশাকের ক্রেতা বা বায়ার্স ফোরামের প্রতিনিধিরা। এটি বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের কাছে অন্যতম প্রত্যাশা বলেও উল্লেখ করেন তারা।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে এ কথা বলেন বায়ার্স ফোরামের প্রতিনিধিরা। বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্পে টেকসই সাপ্লাই চেইন জোরদার করতে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ বৈঠকে ৪০টিরও বেশি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অংশীদারত্বমূলক কৌশল নির্ধারণ ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া। বৈঠকে টেকসই সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করতে পোশাক ব্র্যান্ডগুলো ও বিজিএমইএ কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে পারে সে বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান; সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, শাহ রাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আব্দুর রহিম; পরিচালক ফয়সাল সামাদ, মো. হাসিব উদ্দিন, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, সুমাইয়া ইসলাম, মজুমদার আরিফুর রহমান, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, কাজী মিজানুর রহমান, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল, সামিহা আজিম এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি অন বিজিএমইএ ব্র্যান্ডিংয়ের চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম (শুভ), স্ট্যান্ডিং কমিটি অন বায়ার্স ফোরামের চেয়ারম্যান মাশেদ রহমান আব্দুল্লাহ ও স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ওয়ান স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া।
বৈঠকে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ, সমন্বিত আচরণবিধি প্রবর্তন, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, শ্রম সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি, জিএসপি প্লাস থ্রেশহোল্ডের চ্যালেঞ্জসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষ থেকে টেকসই সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করতে লজিস্টিক উন্নয়ন, এনবিআর ও কাস্টমস বিষয়ক জটিলতা নিরসন, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শ্রম পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশগত সাসটেইনেবিলিটির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বায়ার্স ফোরাম প্রতিনিধিরা জানান, তৈরি পোশাক শিল্পে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ রয়েছে। তারা বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) টেকনিক্যাল ডিজাইন শাখা চালু করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কারখানা পর্যায়ে তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনারদের নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দেন। এটি বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের কাছে ব্যান্ডগুলোর অন্যতম প্রত্যাশা বলেও জানানো হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএর অন্যতম এজেন্ডা ছিল পোশাক শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়নে ব্র্যান্ডগুলোর সহযোগিতা ও সমর্থন আদায়, যা সাপ্লাই চেইনে সব অংশীদারকে উপকৃত করবে।
বৈঠকে বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে দেখান, একটি সমন্বিত আচরণবিধি কীভাবে নিরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজতর করে এবং কারখানার ওপর চাপ কমিয়ে শিল্পকে আরো নৈতিক, টেকসই ও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।
আলোচনায় শ্রম সংস্কারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময় বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাংলাদেশে শ্রম সংস্কারের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, ‘এ সংস্কারগুলো শুধু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের জন্য নয়, বরং একটি টেকসই ও নিরাপদ শিল্প পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য করা হচ্ছে।’ তিনি ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের এ ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং বৃদ্ধি ও আরো উচ্চমানের উদ্ভাবনী পণ্য উৎপাদনে সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের জন্য ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি অনুরোধ করেন। পোশাক শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য বেটার প্রাইসিং এবং ইফিশিয়েন্সি মডেল প্রণয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়।